Home অপরাধ কন্ঠ বরিশালে নিজ মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করেল পাশন্ড বাবা

বরিশালে নিজ মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করেল পাশন্ড বাবা

খোকন হাওলাদার॥ পৃথিবীতে পিতা-মাতার সবচেয়ে বেশি আদরে থাকে তার সন্তানরা। আর যত বেশি সন্তান হোক না কেন তার পরেও সন্তানদের প্রতি আলাদা ভালবাসা থাকে পিতা-মাতার। পিতা চেয়ে মাতা পাষন্ড হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেলেও এবার বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের সাপানিয়া গ্রামে ঘটে গেলে এক সিনেমার দৃশ্য।
মেয়েকে উপবৃত্তির টাকা দেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাই ছবি তুলতে হবে। গতকাল সকালে মেয়ে সাবিয়া আক্তার অথৈ (১১)কে ছবি তুলতে বরিশাল নগরীতে নিয়ে আসেন পিতা। পিতা মাতার এক মাত্র কন্যা সাবিয়া আক্তার অথৈ সাপানিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী বলে জানা গেছে। ছবি তুলতে নিয়ে আসেন নিহত সাবিয়া আক্তার অথৈ’র পিতা বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পানির পাম্প অপারেটর কাজী গোলাম মোস্তফা। সেখানে নিয়ে আসে পাম্পের রুমে বসেই নিজ মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে পিতা কাজী গোলাম মোস্তফা। হত্যার পরে সেই পাম্পের রুমে আসে সিটি কর্পোরেশনের অপর এক কর্মচারী জুয়েল তাকে রুমে ঢুকতে না দিয়েই বাহির থেকে কথা বলে পাঠিয়ে দেয় কাজী মোস্তফা। এসময় মোস্তফা জানায় তার রুমে অন্যে লোক আছে এক কাজ চলছে তোর সাথে পরে কথা হবে।
এরপরেই একটি সিএনজিতে করে খুন হওয়া মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পথে যায় পিতা ঘাতক কাজী গোলাম মোস্তফা। বাড়ির পাশের একটি লেবু বাগানে মেয়ের মৃতদেহ রেখে বাড়িতে যায় ঘাতক পিতা। কাজী গোলাম মোস্তফা বাড়িতে গিয়ে নিহত সাবিয়া আক্তার অথৈ’র মা সোহেলী পারভীন রুমাকে জানায় সে জমির দলিল দিতে বরিশালে যাচ্ছে।
সূত্র আরো জানায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পলাশপুর পাম্পের রানা শরিফের কাছ থেকে অনেক আগে ৮ লক্ষ টাকা নিয়ে ছিলো। মোস্তফা রানাকে অনেক দিন যাবৎ জমির দলিল না দিয়ে আজ কাল করে দিন পার করতো। সেই টাকা নিয়ে মোস্তফা ও রানার মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছিলো। গতকাল রানাকে জমির দলিল দেয়ার কথা ছিলো বলে সূত্রটি নিশ্চিত করে জানান।
পরে সকাল ১০টার দিকে নিহত অথৈ’র পিতা তার মাকে মুঠোফোনে বলেন, মেয়ে বাসার দিকে যাচ্ছে এগিয়ে নাও। এমন কথায় তিনি বাসা থেকে বের হয়ে মেয়েকে আনতে গিয়ে লেবু বাগানে পড়ে থাকতে দেখে অথৈ’র নিথর দেহ। মেয়ের নিথর দেখে ডাক-চিৎকার দেয় নিহত অথৈ’র মা সোহেলী পারভীন রুমা। সোহেলী পারভীন রুমা’র ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে নিহত অথৈকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। শেবাচিম হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবিয়া আক্তার অথৈকে মৃত ঘোষনা করেন।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন ও সেকেন্ড অফিসার এসআই তানজিলসহ কাউনিয়া পুলিশের একটি চৌকোস দল। ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপ-পুলিশ কমিশনার(উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি কাউনিয়া)। চলে দিনভর অনুসন্ধান। অনুসন্ধানে তেমন কোন কিছু না পেলেও অভিযোগের তীর দেখা যায় নিহত অথৈ’র পিতা কাজী গোলাম মোস্তফার দিকে।
গতকাল বিকেলে নিহত অথৈর পিতাকে নিয়ে আসে কাউনিয়া থানা পুলিশ চলে জিজ্ঞাসাবাদ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে গতকাল মধ্যরাতে তিনি নিজেই স্বীকার করেন মেয়েকে হত্যার মূল ঘটনা। এদিকে মেয়ের মা রুমা বেগম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এবিষয় কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে তবে অন্য কোন বিষয় কথা বলতে রাজি হন নি। তিনি আরো বলেন, মামলার স্বার্থে কোন তথ্য দেয়া যাচ্ছে না কালকে(আজ) পুরো তথ্যই পাবেন।